বিল গেটসের চোখে এই তিন পেশা এআই সহজে কেড়ে নিতে পারবে না

Wait 5 sec.

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কারণে বদলে যাচ্ছে কাজের দুনিয়া। এখন এআই দিয়ে লেখা যায়, ছবি আঁকা যায়, এমনকি কম্পিউটার প্রোগ্রামও তৈরি করা যায়। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন, ভবিষ্যতে মানুষের চাকরি কি এআই নিয়ে নেবে? মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মতে, অনেক কাজের ধরন বদলে যাবে। কিছু কাজ মানুষের বদলে যন্ত্র করতে শুরু করবে। তবে এমন কিছু পেশাও আছে, যেখানে মানুষের দক্ষতা ও চিন্তাশক্তির প্রয়োজন সহজে ফুরাবে না।২০২৫ সালের মার্চে ভারতের মুম্বাইয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আয়োজিত ‘এক্সপ্রেস আড্ডা’ অনুষ্ঠানে এআই ও ভবিষ্যতের কাজ নিয়ে কথা বলেন বিল গেটস। সেখানে তিনি তিনটি পেশার কথা উল্লেখ করেন—সফটওয়্যার ডেভেলপার, জীববিজ্ঞানী ও জ্বালানিবিশেষজ্ঞ। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা হলো, এসব ক্ষেত্রে জটিল সমস্যা সমাধান, নতুন কিছু আবিষ্কার এবং গভীরভাবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার হয়। তাই এআইয়ের উন্নতির মধ্যেও এসব পেশায় মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।তাজা মাছ থাকতে শুঁটকি কেন১. সফটওয়্যার ডেভেলপারকম্পিউটারকে দিয়ে নানা কাজ করানোর জন্য সফটওয়্যার তৈরি করেন সফটওয়্যার ডেভেলপাররা। তাঁদের কাজের মধ্যে রয়েছে নতুন প্রোগ্রাম তৈরি, কম্পিউটার ব্যবস্থার নকশা করা এবং সফটওয়্যারে কোনো ভুল থাকলে তা খুঁজে বের করে ঠিক করা।এখন এআইয়ের সাহায্যে অল্প সময়েই অনেক কোড লেখা যায়। কোডের ভুল খুঁজে বের করতেও এআই বেশ দক্ষ। তাহলে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের প্রয়োজন কি কমে যাবে?বিল গেটসের মতে, আপাতত এ পেশায় মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। কারণ, জটিল সফটওয়্যার তৈরি করতে শুধু কোড লিখতে জানলেই হয় না। কী সমস্যা সমাধান করতে হবে, কোন পদ্ধতিতে কাজটি করা ভালো হবে এবং বিভিন্ন অংশকে কীভাবে একসঙ্গে কাজ করানো যাবে, তা-ও ঠিক করতে হয়। এআই এসব কাজে সাহায্য করতে পারলেও মানুষের পরিকল্পনা, বিচারবুদ্ধি ও তদারকির প্রয়োজন এখনো রয়েছে।এ ছাড়া এআইয়ের উন্নয়নেও সফটওয়্যার ডেভেলপারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এআই যত উন্নত হবে, এ পেশার কাজের ধরনও তত বদলাতে পারে।অতিরিক্ত বই পড়লে কি কোনো অসুবিধা আছে২. জীববিজ্ঞানীজীববিজ্ঞানীরা জীবজগৎ নিয়ে গবেষণা করেন। জীবের গঠন, রোগের কারণ, ডিএনএ ও জীবদেহের নানা প্রক্রিয়া তাঁদের গবেষণার বিষয়। নতুন ওষুধ আবিষ্কার থেকে শুরু করে রোগের চিকিৎসা খুঁজে বের করা, অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাঁদের অবদান রয়েছে।গবেষণায় এআই এখন বেশ কাজে আসছে। বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, ডিএনএ পরীক্ষা ও রোগ শনাক্ত করার মতো কাজে এটি বিজ্ঞানীদের সাহায্য করতে পারে। কিন্তু নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের জন্য শুধু তথ্য বিশ্লেষণ করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নতুন প্রশ্ন তোলা, সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দাঁড় করানো এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলো যাচাই করা।ধরা যাক, বিজ্ঞানীরা এমন একটি রোগ নিয়ে গবেষণা করছেন, যার কারণ এখনো অজানা। এআই আগের গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য কারণ খুঁজতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু কোন ধারণাটি নিয়ে পরীক্ষা করা হবে, পরীক্ষার ফল কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে এবং সেখান থেকে নতুন কী সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়, এসব ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।বিল গেটসের মতে, জীববিজ্ঞানে নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্য যে সৃজনশীল চিন্তা ও অনুসন্ধানের প্রয়োজন হয়, তা এআই এখনো পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেনি। তাই জীববিজ্ঞানীদের কাজেও এআই সহায়ক হবে, তবে তাঁদের জায়গা পুরোপুরি নিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখনই নিশ্চিত নয়।এই শতাব্দীতে মানুষের জন্য ১৭টি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি৩. জ্বালানিবিশেষজ্ঞআমাদের বাড়ির বাতি জ্বালানো থেকে শুরু করে কলকারখানা চালানোসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি প্রয়োজন। বিদ্যুৎ কীভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ করা হবে, কোন জ্বালানি ব্যবহার করা হবে এবং কীভাবে পরিবেশের ক্ষতি কমানো যাবে, এসব নিয়ে কাজ করেন জ্বালানিবিশেষজ্ঞরা।সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি, পারমাণবিক শক্তি ও প্রচলিত জ্বালানির মতো নানা ক্ষেত্রের সঙ্গে জ্বালানিবিশেষজ্ঞদের কাজ জড়িত। এসব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রযুক্তির পাশাপাশি নিরাপত্তা, খরচ, পরিবেশ ও মানুষের চাহিদার বিষয়গুলোও বিবেচনা করতে হয়।এআই বিদ্যুতের চাহিদা অনুমান করতে পারে, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে এবং জ্বালানির ব্যবহার আরও কার্যকর করার উপায় খুঁজতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু একটি দেশের পুরো জ্বালানিব্যবস্থা পরিচালনা করা বেশ জটিল কাজ। হঠাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেলে, কোনো যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিলে কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে দ্রুত ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে হয়।গেটসের মতে, জ্বালানিব্যবস্থার এ জটিলতার কারণে আপাতত এ খাতে মানুষের প্রয়োজন থাকবে। বিশেষজ্ঞদের কাজ এআই সহজ করতে পারবে, কিন্তু পুরো ব্যবস্থার দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।তাহলে কি বাকি সব চাকরি হারিয়ে যাবে? তিনটি পেশার কথা বললেও গেটসের বক্তব্যকে এমনভাবে বোঝা ঠিক হবে না যে শুধু এ তিন পেশার মানুষই ভবিষ্যতে চাকরি করবে। আবার এসব পেশাও যে কখনো এআইয়ের কারণে বদলাবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তাঁর বক্তব্য মূলত এআইয়ের বর্তমান সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে কোন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন থাকতে পারে, তা নিয়ে।সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসএই শতাব্দীতে মানুষের জন্য ১৭টি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি